সূরা

সূরা ক্বাফ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত

Share this

সূরা ক্বাফ বাংলা উচ্চারণ: সূরা ক্বাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাক্কী সূরা। এতে ঈমান, কিয়ামত, পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নামের দৃশ্য এবং মানুষের প্রতিটি কাজ রেকর্ড হওয়ার বিষয় অত্যন্ত শক্তিশালী ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এই সূরার শুরু হয়েছে একটি হুরুফে মুকাত্তা‘আত “قٓ (ক্বাফ)” দ্বারা — যার সঠিক অর্থ আল্লাহই ভালো জানেন।

Read More:-

সূরা ক্বাফ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
অর্থ: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।


সূরা নম্বর: ৫০
আয়াত সংখ্যা: ৪৫
নাজিলের স্থান: মক্কা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আয়াত ১

ق ۚ وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ

উচ্চারণ: ক্বাফ। ওয়াল কুরআনিল মাজীদ।

শব্দে অর্থ: وَ = শপথ, الْقُرْآنِ = কুরআন, الْمَجِيدِ = মহিমান্বিত

তাফসির: আল্লাহ তাআলা মহিমান্বিত কুরআনের শপথ করে পুনরুত্থানের সত্যতা ঘোষণা করেছেন।

আয়াত ২-৫

মানুষ বিস্মিত হয়েছিল যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছে। তারা মৃত্যুর পর পুনরুত্থান অস্বীকার করত। আল্লাহ ঘোষণা করেন যে তিনি জানেন মাটি দেহ থেকে কী গ্রহণ করে এবং সব কিছু লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আয়াত ৬১১

আকাশের সৃষ্টি, পৃথিবীর বিস্তার, পাহাড় স্থাপন ও বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলো পুনরুত্থানের প্রমাণ।

আয়াত ১২১৫

পূর্ববর্তী জাতিগণ রাসূলদের অস্বীকার করেছিল এবং ধ্বংস হয়েছিল। প্রথমবার সৃষ্টি করতে যিনি সক্ষম, পুনরায় সৃষ্টি করাও তাঁর জন্য সহজ।

আয়াত ১৬

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার গ্রীবাস্থি শিরার চেয়েও নিকটবর্তী।

তাফসির: আল্লাহ মানুষের অন্তরের সব কথা জানেন।

আয়াত ১৭১৮

দুই ফেরেশতা মানুষের ডানে-বামে বসে প্রতিটি কথা লিখছে।

আয়াত ১৯২০

মৃত্যুযন্ত্রণা আসবে এবং শিঙ্গা ফুঁকানো হবে—এটাই প্রতিশ্রুত দিন।

আয়াত ২১৩০

হাশরের মাঠে মানুষ তার আমলসহ উপস্থিত হবে। জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তুমি কি পূর্ণ হয়েছ?

আয়াত ৩১৩৫

মুত্তাকীদের জন্য জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে। সেখানে চিরস্থায়ী শান্তি ও যা চাইবে তা থাকবে।

আয়াত ৩৬৪৫

পূর্ববর্তী শক্তিশালী জাতির ধ্বংসের উদাহরণ, কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ এবং নবী (সা.)-কে ধৈর্যের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূরা ক্বাফ ফজিলত

সূরা ক্বাফ (سورة ق) হলো পবিত্র কুরআনের ৫০ নম্বর সূরা। এটি একটি মাক্কী সূরা এবং এতে মোট ৪৫টি আয়াত রয়েছে। এই সূরায় আল্লাহ তাআলার কুদরত, কিয়ামত, হাশর-নশর, মানুষের আমলনামা এবং তাকওয়ার গুরুত্ব অত্যন্ত প্রভাবশালী ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে।

নিচে সূরা ক্বাফের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত তুলে ধরা হলো—

জুমার খুতবায় নিয়মিত তিলাওয়াতের সুন্নাহ

সহিহ হাদিসে এসেছে যে,
মুহাম্মদ (সা.) জুমার দিন খুতবায় প্রায়ই সূরা ক্বাফ তিলাওয়াত করতেন।

📚 হাদিস সূত্র: সহিহ মুসলিম

এ থেকে বোঝা যায়, সূরা ক্বাফের মধ্যে এমন শক্তিশালী উপদেশ ও সতর্কবাণী রয়েছে যা মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ঈদের নামাজে তিলাওয়াতের আমল

হাদিসে বর্ণিত আছে যে,
মুহাম্মদ (সা.) ঈদের নামাজে কখনো সূরা ক্বাফ এবং কখনো সূরা কামার তিলাওয়াত করতেন।

📚 হাদিস সূত্র: সহিহ মুসলিম

এটি প্রমাণ করে যে, সূরা ক্বাফের বিষয়বস্তু মানুষের ঈমান জাগ্রত করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

কিয়ামতের ভয়াবহতার স্মরণ

সূরা ক্বাফে কিয়ামতের দিন মানুষের অবস্থা, হিসাব-নিকাশ, ফেরেশতাদের সাক্ষ্য এবং জাহান্নাম-জান্নাতের বিবরণ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই সূরা নিয়মিত তিলাওয়াত করলে—

  • কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস মজবুত হয়
  • গুনাহ থেকে দূরে থাকার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়
  • আমলের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়

অন্তর কোমল করে ও ঈমান বৃদ্ধি করে

এই সূরার ভাষা অত্যন্ত শক্তিশালী ও হৃদয়স্পর্শী। আল্লাহ তাআলার কুদরত, মৃত্যুর বাস্তবতা ও আখিরাতের দৃশ্যপট মানুষের অন্তরকে নরম করে দেয় এবং ঈমানকে দৃঢ় করে।

দাওয়াত ও নসিহতের জন্য উপযোগী

কারণ সূরা ক্বাফে—

  • সৃষ্টি রহস্য
  • পুনরুত্থান
  • মানুষের কাজের রেকর্ড
  • জান্নাত ও জাহান্নামের পরিণতি

খুব সংক্ষিপ্ত অথচ প্রভাবশালীভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাই দাওয়াতি কাজ ও নসিহতের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী সূরা।

আমাদের শেষ কথা

সূরা ক্বাফ আমাদের জীবনের বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয় মৃত্যু, কবর, হিসাব, জান্নাত ও জাহান্নাম। এই সূরা তেলাওয়াত করলে হৃদয়ে আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়, ঈমান দৃঢ় হয় এবং আমল সংশোধনের অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআন বুঝে পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *