সূরা সাবা বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত
Share this
সূরা সাবা বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত: সূরা সাবা কুরআনের ৩৪ নম্বর সূরা। এতে মোট ৫৪টি আয়াত রয়েছে। এটি মাক্কী সূরা হিসেবে নাজিল হয়েছে। সূরার মূল বিষয় হলো:
- আল্লাহর একত্ব ও নবীদের সত্যতা
- পূর্ববর্তী জাতির ধ্বংস ও শিক্ষণীয় ঘটনা
- কিয়ামত ও আখিরাতের সতর্কতা
- মানব জীবনের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা
“সাবা” নামটি এসেছে সাবা জাতি থেকে, যা প্রাচীন আরবের এক প্রগতিশীল জাতি ছিল, যারা আল্লাহর প্রতি অবজ্ঞা করেছিল এবং ফলস্বরূপ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছিল। বাংলাদেশে মুসলিম সমাজে এই সূরার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে যারা ঈমান, ধৈর্য ও নৈতিকতার দিকে মনোযোগ দিতে চায়।
আরবি নাম: سبأ
সূরা নম্বর: ৩৪
আয়াত সংখ্যা: ৫৪
নাজিলের স্থান: মক্কা
Read More:-
- মাগরিবের নামাজ কয় রাকাত
- যোহরের নামাজ কয় রাকাত
- তারাবির নামাজের নিয়ম দোয়া ও মোনাজা
- ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ
সূরা সাবা বাংলা উচ্চারণ, অর্থ
আয়াত ১
الحمد لله الذي له ما في السماوات وما في الأرض وله الحمد في الآخرة وهو الحكيم الخبير
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল লাযি লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়া মা fil-আরদি, ওয়া লাহুল হামদু fil-আখিরাহি, ও হুয়াল হাকীমুল খাবীর
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার জন্য আসমান ও পৃথিবীর সবকিছু, যিনি আখিরাতেও প্রশংসিত, এবং তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আয়াত ১৩–১৪ (সাবা জাতি)
وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَى كَثِيرٍ مِنْ عِبَادِهِ المُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: ওয়ালাকাদ আতাইনা দাউদা ওয়াসুলাইমানা ইলমা, ওয়াকালা আলহামদুলিল্লাহিল লাযি ফাদ্জালনা আলা কাসীরিম মিন ইবাদিহিল মুমিনীন
অর্থ: নিশ্চয় আমরা দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দিই, তারা বলেছিল: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের অনেক বিশ্বাসী বান্দার ওপর বিশেষ করুণা করেছেন।
আয়াত ৪২–৪৩ (আখিরাতের স্মরণ)
وَمَا أَدْرَاكَ مَا السَّاعَةُ
উচ্চারণ: ওয়ামা আদরাকা মাস-সা‘াহ
অর্থ: তুমি কি জানো কিয়ামত কখন হবে?
ব্যাখ্যা: আখিরাতের আগমন মানুষের কাছে অজানা। সূরায় উল্লেখ আছে যে, এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে।
আয়াত ৫৪ (শেষ আয়াত)
لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ
উচ্চারণ: লিল্লাহি মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়া মা fil-আরদি, ও ইলাইহি ফিরজাউল আমরু কুল্লাহু
অর্থ: আসমান ও পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহর, এবং সব বিষয় আল্লাহর নিকটে ফেরে।
সূরা সাবা ফজিলত
সূরা সাবা কুরআনের ৩৪ নম্বর সূরা এবং এতে মোট ৫৪টি আয়াত রয়েছে। এটি মাক্কী সূরা এবং মানব জীবনের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রদান করে। সূরার মূল বিষয় হলো আল্লাহর একত্ব, নবীদের সত্যতা, পূর্ববর্তী জাতির শিক্ষা, আখিরাতের সতর্কতা এবং মানব জীবনের নৈতিক দিকনির্দেশনা। বাংলাদেশের মুসলিম পরিবারে শিশু ও কিশোরদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সূরা সাবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঈমান ও তাওহীদ দৃঢ়করণ
সূরা সাবা আল্লাহর একত্ব এবং নবীদের সত্যতা বারবার উল্লেখ করে। নিয়মিত তেলাওয়াত ও অর্থ বোঝার মাধ্যমে মানুষের ঈমান দৃঢ় হয়। বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও ভরসা বৃদ্ধি করে।
ধৈর্য, ধ্যান ও নৈতিক শিক্ষা
পূর্ববর্তী জাতি যেমন সাবা ও অন্য জনগণ আল্লাহর বাণী অমান্য করেছিল এবং ফলস্বরূপ ধ্বংস হয়েছিল। এই গল্প থেকে আমরা শিক্ষা পাই—অহংকার, বিদ্রুপ বা অন্যকে ছোট করা কেবল সমাজের ক্ষতি করে না, বরং আধ্যাত্মিক ক্ষতি ঘটায়।
বাংলাদেশে মুসলিম সমাজে এই শিক্ষা শিশু ও কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
আখিরাতের স্মরণ
সূরা সাবা আখিরাতের কথা উল্লেখ করে। যারা নিয়মিত সূরা পড়বে, তারা আখিরাতের জন্য সচেতন হবে এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আনন্দের সঙ্গে স্থায়ী আখিরাতের আনন্দের কথা মনে রাখবে। এটি মানুষের জীবনকে নৈতিক ও সচেতনভাবে পরিচালনার জন্য সহায়ক।
আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ
সূরায় বারবার স্মরণ করানো হয়েছে যে, সব বিষয় আল্লাহর নিকটে ফেরে। এটি মানুষের মধ্যে নম্রতা, বিনয় এবং আত্মসমর্পণের চেতনা বৃদ্ধি করে। বাংলাদেশি মুসলমানদের জীবনে এটি আত্মিক স্থিরতা ও সতর্কতা আনে।
সামাজিক নৈতিকতা ও নিন্দা পরিহার
পূর্ববর্তী জাতির পতনের গল্প আমাদের শেখায়—অহংকার, বিদ্রুপ বা অন্যকে ছোট করার ফল ভয়ঙ্কর হতে পারে। এটি বিশেষ করে বাংলাদেশি সমাজে নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়ক।
আমাদের শেষ কথা
মুসলমানদের জন্য এই সূরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত তেলাওয়াত, আয়াতের অর্থ বোঝা এবং শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা নিজের আত্মাকে আল্লাহভীতি, নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিকতা দিয়ে পরিপূর্ণ করতে পারি। সূরা সাবা আমাদের সতর্ক করে দেয় যে, ধৈর্য, বিনয় এবং আল্লাহর পথে চলা জীবনের সত্যিকারের সাফল্য ও শান্তির চাবিকাঠি। তাই প্রতিদিন এই সূরার পাঠ ও অর্থ বোঝার অভ্যাস আমাদের জীবনকে আলোকিত করবে এবং আখিরাতের জন্য আমাদের প্রস্তুত রাখবে।




