সূরা

সূরা হুদ‌ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত

Share this

সূরা হুদ‌ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত: সূরা হুদ একটি মাক্কী সূরা। এতে মূলত তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত এবং পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনি বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষভাবে নবী হুদ (আ.)-এর নামানুসারে এ সূরার নামকরণ। এই সূরায় নূহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ (আ.), ইবরাহিম (আ.), লুত (আ.), শুয়াইব (আ.) এবং মূসা (আ.)-এর কাহিনি আলোচিত হয়েছে। এই সূরা অবতীর্ণ হয়েছিল এমন সময়ে যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং মুসলমানরা কঠিন নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই এতে ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং আল্লাহর উপর ভরসার শিক্ষা বিশেষভাবে দেওয়া হয়েছে।

Read More:-

সূরা হুদ‌ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
অর্থ: পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আয়াত ১

الر ۚ كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ…

উচ্চারণ: আলিফ-লাম-রা। কিতাবুন উহকিমাত আয়াতুহু…

অর্থ: আলিফ-লাম-রা। এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে এবং পরে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে—এক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় সত্তার পক্ষ থেকে।

👉 এখানে কুরআনের নিখুঁত ও সুসংগঠিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আয়াত ২–৪

আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত না করার নির্দেশ। তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান। পুনরুত্থান ও হিসাবের দিনের ঘোষণা।

নূহ (আ.)-এর কাহিনি (আয়াত ২৫–৪৯)

নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে ৯৫০ বছর দাওয়াত দেন। তারা অস্বীকার করে। আল্লাহর নির্দেশে নৌকা নির্মাণ করেন। মহাপ্লাবনে কাফিররা ডুবে যায়।

👉 শিক্ষা: দাওয়াতে ধৈর্য ও আল্লাহর সাহায্যের উপর ভরসা।

হুদ (আ.) ও আদ জাতি (৫০–৬০)

আদ জাতি শক্তিশালী ছিল কিন্তু অহংকারী ছিল। তারা নবী হুদ (আ.)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে। শেষে ভয়ংকর ঝড়ে ধ্বংস হয়।

👉 শিক্ষা: শক্তি ও সম্পদ অহংকারের কারণ হলে ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী।

সালেহ (আ.) ও সামুদ জাতি (৬১–৬৮)

উটনী ছিল তাদের জন্য নিদর্শন। তারা তা হত্যা করে। তিন দিনের মধ্যে শাস্তি নেমে আসে।

ইবরাহিম (আ.) ও লুত (আ.) (৬৯–৮৩)

লুত (আ.)-এর জাতি অশ্লীলতায় লিপ্ত ছিল। ফেরেশতারা এসে ধ্বংসের সংবাদ দেন। শহর উল্টে দেওয়া হয়।

শুয়াইব (আ.) (৮৪–৯৫)

ব্যবসায় প্রতারণা ও মাপে কম দেওয়ার অপরাধে জাতি ধ্বংস হয়।

মূসা (আ.) ও ফিরআউন (৯৬–৯৯)

ফিরআউনের অহংকারের পরিণতি বর্ণনা।

গুরুত্বপূর্ণ আয়াত

আয়াত ১১২

فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ

উচ্চারণ: ফাস্তাকিম কামা উমিরতা
অর্থ: “আপনি যেমন নির্দেশ পেয়েছেন তেমনই দৃঢ় থাকুন।”

এই আয়াতের কারণেই রাসূল ﷺ বলেছেন:

“সূরা হুদ আমাকে বার্ধক্যে পৌঁছে দিয়েছে।”
(তিরমিজি)

কারণ এতে দায়িত্ব, দৃঢ়তা ও কঠিন সতর্কবার্তা রয়েছে।

সূরা হুদ‌ বাংলা উচ্চারণ ফজিলত

সূরা হুদ পবিত্র কুরআনের ১১ নম্বর সূরা। এটি একটি মাক্কী সূরা এবং মোট ১২৩টি আয়াত রয়েছে। এই সূরায় তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত এবং পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে কঠিন সময়ে আল্লাহর পথে অবিচল থাকার শিক্ষা এখানে অত্যন্ত শক্তভাবে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অনেক মুসলিম ভাই-বোন নিয়মিত সূরা ইয়াসিন, সূরা রহমান তেলাওয়াত করেন; তবে সূরা হুদও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা যা ঈমান মজবুত করতে এবং ধৈর্যের শিক্ষা নিতে বিশেষভাবে সহায়ক।

ধৈর্য ও দৃঢ়তার শিক্ষা

সূরা হুদে একাধিক নবীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে—নূহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ (আ.), লুত (আ.), শুয়াইব (আ.) প্রমুখ। তারা সবাই কঠিন নির্যাতনের মধ্যেও সত্যের উপর অবিচল ছিলেন। বাংলাদেশে যারা ধর্মীয় অনুশীলনে সামাজিক চাপে পড়েন, তাদের জন্য এটি বড় অনুপ্রেরণা।

গুনাহ থেকে সতর্ক করে

এই সূরায় পূর্ববর্তী শক্তিশালী জাতিদের ধ্বংসের কাহিনি রয়েছে। বার্তা স্পষ্ট—
অহংকার, জুলুম, প্রতারণা ও অবাধ্যতার পরিণতি ভয়াবহ।

তাওবার গুরুত্ব

সূরার শুরুতেই আল্লাহ তাওবার আহ্বান জানিয়েছেন।
যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, আল্লাহ তাকে উত্তম জীবন দান করেন।

ঈমান মজবুত করে

কিয়ামত, হিসাব-নিকাশ এবং আল্লাহর বিচার সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা থাকায় অন্তরে আল্লাহভীতি তৈরি হয়।

জুমার খুতবায় গুরুত্ব

হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূল ﷺ মাঝে মাঝে সূরা হুদসহ অন্যান্য মাক্কী সূরা তেলাওয়াত করতেন যাতে মানুষ আখিরাত স্মরণ করে।

আমাদের শেষ কথা

সূরা হুদ আমাদের শেখায় আল্লাহর পথে অবিচল থাকা সহজ নয়, কিন্তু এটাই মুক্তির একমাত্র পথ। পূর্ববর্তী জাতির ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে দেয়। যারা আল্লাহর নির্দেশ মানে না, তারা ধ্বংস হয়েছে। আর যারা ধৈর্য ধরে, তারা সফল হয়েছে। নিয়মিত সূরা হুদ তেলাওয়াত ও অর্থ বোঝা আমাদের ঈমান মজবুত করে এবং আখিরাতের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *