সূরা হুমাযাহ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত
Share this
সূরা হুমাযাহ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত: সূরা হুমাযাহ একটি মাক্কী সূরা যা খুবই সংক্ষিপ্ত (৯ আয়াত) হলেও গভীর বার্তা বহন করে। এই সূরার মূল বিষয় হল অহংকার, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ, ধন-সম্পদের প্রতি আসক্তি এবং মানুষের সামাজিক নৈতিকতা। “হুমাযাহ” শব্দের অর্থ—যে ব্যক্তি অন্যকে নিন্দা, বিদ্রুপ বা হেনস্তা করে, আর “লুমাযাহ” অর্থ—যে নিজের স্বার্থ ও সম্পদকে সবচেয়ে বড় স্থান দেয়। এই সূরায় আল্লাহ মানুষের নৈতিক চরিত্র, গুনাহ এবং শাস্তির কথা সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তভাবে উল্লেখ করেছেন।
আরবি নাম: هُمَزَة
সূরা নম্বর: ১০৪
আয়াত সংখ্যা: ৯
রুকু: ১
নাজিলের স্থান: মক্কা
Read More:-
- মাগরিবের নামাজ কয় রাকাত
- যোহরের নামাজ কয় রাকাত
- তারাবির নামাজের নিয়ম দোয়া ও মোনাজা
- ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ
সূরা হুমাযাহ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ
আয়াত ১
وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ
উচ্চারণ: ওয়েইলু লিল্লি হুমাযাতিন লুমাযাহ
অর্থ: ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি সেই সব মানুষদের জন্য যারা অন্যকে নিন্দা করে ও বিদ্রুপ করে।
আয়াত ২
الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ
উচ্চারণ: আল্লাযী জামা‘া মালান ওয়া‘দ্দাদাহু
অর্থ: সেই ব্যক্তি, যে ধন-সম্পদ সংগ্রহ করে এবং তা বড় আত্মসুখের জন্য হিসাব করে।
আয়াত ৩
يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ
উচ্চারণ: যাহসাবু আন্না মালাহু আখলাদা
অর্থ: সে মনে করে যে তার ধন-সম্পদ তাকে চিরস্থায়ী করবে।
আয়াত ৪–৫
كَلَّا ۖ لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ
উচ্চারণ: কল্লা, লায়ু নাবাযান্না ফিল হুতামাহ
অর্থ: না, সে অবশ্যই ধ্বংসের দিকে ধাক্কা খাবে, হুতামাহ (ভয়ানক দহনশীল আগুন) এ ফেলে দেওয়া হবে।
আয়াত ৬–৯
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ
উচ্চারণ: ওয়া মা আদরাকা মা হুতামাহ
অর্থ: তুমি কি জানো হুতামাহ কী?
এটি আল্লাহর আগুন, যা শুধু প্রহরিত নয়, বরং সকল গুনাহকে নিখুঁতভাবে দহন করে।
অর্থাৎ, অহংকারী, বিদ্রুপকারী ও ধনপ্রেমী মানুষের জন্য ভয়ংকর শাস্তি রয়েছে।
সূরা হুমাযাহ ফজিলত
সূরা হুমাযাহ কুরআনের ১০৪ নম্বর সূরা এবং এটি ৯টি সংক্ষিপ্ত আয়াত বিশিষ্ট। তবে এর শিক্ষা ও বার্তা অত্যন্ত শক্তিশালী। এই সূরার মূল বিষয় হলো অহংকার, অন্যকে নিন্দা করা, ধন-সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং আখিরাতের ভয়। বাংলাদেশে মুসলিম পরিবার ও সমাজে এই বিষয়গুলোকে সতর্কতার সাথে বোঝানো এবং সন্তানদের মধ্যে আধ্যাত্মিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সূরা হুমাযাহ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অহংকার ও নিন্দা থেকে সতর্কতা
সূরা হুমাযাহ বারবার সতর্ক করে যে, অন্যকে ছোট করা, বিদ্রুপ বা নিন্দা করা আল্লাহর কাছে অপরাধ। যারা এই কাজ করে তারা শুধু অন্যকে ক্ষতি করে না, বরং নিজের আত্মিক শাস্তির কারণও তৈরি করে।
বাংলাদেশের সমাজে যারা গুজব, নিন্দা বা হীনমন্যতার শিকার হন, তাদের জন্য এই সূরার তেলাওয়াত এবং অর্থ বোঝা অত্যন্ত শিক্ষণীয়। শিশু ও কিশোরদেরও ছোটবেলায় নিন্দা ও বিদ্রুপের ক্ষতিকর প্রভাব বোঝানো যায়।
ধন-সম্পদে আসক্তি ত্যাগ
সূরা হুমাযাহ উল্লেখ করে যে, যারা নিজের ধন-সম্পদকে চিরস্থায়ী মনে করে, তারা ভুল পথে চলতে পারে। বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—ধন-সম্পদ আল্লাহর দেওয়া পরীক্ষা, এবং তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
আখিরাতের ভয় ও সতর্কতা
সূরা হুমাযাহ আখিরাতের ভয়ানক শাস্তি উল্লেখ করে। যারা অহংকারী, নিন্দুক বা ধনপ্রেমী, তাদের জন্য হুতামাহ (নরকীয় আগুন) নির্ধারিত। নিয়মিত তেলাওয়াত ও অর্থ বোঝার মাধ্যমে মুসলমানরা আখিরাতের ভয় মনে রাখতে পারে এবং দুনিয়ায় গুনাহ থেকে বিরত থাকতে পারে।
সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর শিক্ষা
শুধু ৯ আয়াতের মধ্যে সূরা হুমাযাহ সম্পূর্ণ নৈতিক শিক্ষা ও সতর্কবার্তা প্রদান করে। নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে সতর্কতা, বিনয়, আল্লাহভীতি এবং আত্মসমালোচনার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ
- নিয়মিত তেলাওয়াত: দৈনন্দিন জীবনে অন্তত ১–২ আয়াত অর্থসহ পড়ুন।
- অর্থ বোঝা: শুধু মুখস্থ নয়, আয়াতের অর্থ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সামাজিক আচরণে সতর্কতা: অন্যকে ছোট করা, বিদ্রুপ বা নিন্দা এড়িয়ে চলুন।
- ধন-সম্পদের ব্যবহার: ধন-সম্পদ আখিরাতের কাজে ব্যবহার করুন, অহংকার নয়।
- শিশুদের শিক্ষণ: সহজ ভাষায় তাদের শেখান অহংকার ও নিন্দার ক্ষতি।
আমাদের শেষ কথা
সূরা হুমাযাহ আমাদের সতর্ক করে দেয়—নিন্দা, অহংকার ও ধন-সম্পদ আসক্তি মানুষের আত্মাকে ধ্বংস করে। নিয়মিত তেলাওয়াত, অর্থ বোঝা এবং শেখা জীবনে সতর্কতা, বিনয় ও আল্লাহভীতি বৃদ্ধি করে। বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যা আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষা অর্জনে সহায়ক।




