সূরা লোক্মান বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত
Share this
সূরা লোক্মান বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত: সূরা লোকমান ৩১ নম্বর সূরা, মাক্কী সূরা হিসেবে নাজিল। এতে মূলত নেক শিক্ষা, তাওহীদ, ঈমান, সন্তান শিক্ষা এবং জীবনের নৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই সূরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লোকমান (আ.)-এর পুত্রকে দাওয়াত এবং শিক্ষণ। এতে মানব জীবনের নৈতিক শিক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মুসলিম পরিবারে সন্তানদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সূরা বিশেষভাবে উপযোগী।
আরবি নাম: لقمان
সূরা নম্বর: ৩১
আয়াত সংখ্যা: ৩৪
রুকু: ৬
নাজিলের স্থান: মক্কা
Read More:-
- মাগরিবের নামাজ কয় রাকাত
- যোহরের নামাজ কয় রাকাত
- তারাবির নামাজের নিয়ম দোয়া ও মোনাজা
- ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ
সূরা লোক্মান বাংলা উচ্চারণ, অর্থ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
অর্থ: পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আয়াত ১
الم ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ
উচ্চারণ: আলিফ-লাম-মীম। তিলকা আয়াতুল কিতাবিল হাকীম
অর্থ: আলিফ-লাম-মীম। এটি এক কিতাবের আয়াত, যা প্রজ্ঞা ও নৈতিকতায় পূর্ণ।
আয়াত ১৩ (লোকমানের শিক্ষা)
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا أَصَابَكَ
উচ্চারণ: বা বুনাই্য্য, আকিমিশ সালাতা ওয়া অমর বিল-মারুফি ওয়ানহা আনিল মুনকারি ওয়াসবির আলা মা আসাবাকা
অর্থ: হে আমার পুত্র! নামাজ কায়েম করো, ভালো কাজের আহ্বান দাও, দোষ-মন্দ থেকে বিরত করো এবং যা তোমার সাথে ঘটে ধৈর্য ধারণ করো।
👉 এটি পিতামাতার শিক্ষার মূল ভিত্তি।
আয়াত ১৫
وَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا
উচ্চারণ: ওয়াকিম ওজ্জাহাকা লেদ-দীনি হানিফা
অর্থ: তোমার জীবনকে একনিষ্ঠভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ করো।
আয়াত ১৬
لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا
উচ্চারণ: লা তুশরিক বিল্লাহি শাইয়ান
অর্থ: আল্লাহর সাথে কোনো কিছুর শরীক করো না।
আয়াত ১৮–১৯ (সন্তান ও নৈতিকতা)
وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ
উচ্চারণ: ওয়াকসিদ ফি মাশিক ওয়াঘ্দুধ মিন সাওতিক
অর্থ: হাঁটার সময় মার্জিত হও, কণ্ঠস্বর কম রাখ।
শেষ আয়াত (৩৪)
إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাহা ইন্দাহু ইলমুস-সা‘াহি ওয়ায়ুনাজিলুল ঘাইসা ওয়ায়‘লামু মা ফিল আরহাম
অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঘড়ির (কিয়ামতের) তথ্য আছে, সে বর্ষণ বর্ষণ করে এবং গর্ভের ভিতরকার সবকিছু জানেন।
সূরা লোক্মান ফজিলত
সূরা লোক্মান কুরআনের ৩১ নম্বর সূরা এবং এতে ৩৪টি আয়াত রয়েছে। এটি মাক্কী সূরা এবং নৈতিক শিক্ষা, ঈমান, সন্তান শিক্ষা, তাওহীদ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূরার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো লোকমান (আ.)-এর পুত্রকে শিক্ষণ, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নৈতিক দিকনির্দেশনা এবং আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।
বাংলাদেশের মুসলিম পরিবারে সন্তানদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সূরা বিশেষভাবে উপযোগী।
সন্তান শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব
সূরা লোকমান আমাদের শেখায় কিভাবে সন্তানদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতে হয়।
- নামাজ কায়েম করা
- সৎ কাজের আহ্বান দেওয়া
- দোষ-মন্দ থেকে বিরত থাকা
- ধৈর্য ধারণ করা
বাংলাদেশে পিতামাতারা এই সূরার আয়াতগুলোর মাধ্যমে সন্তানদের চরিত্র গঠন করতে পারেন। শিশুদের ছোটবেলায় নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হলে তা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে আসে।
ঈমান ও তাওহীদ দৃঢ়করণ
সূরায় বারবার আল্লাহর একত্ব ও শিরক পরিহারের গুরুত্ব বলা হয়েছে। নিয়মিত এই সূরা পড়লে মুসলমানদের ঈমান দৃঢ় হয় এবং তারা জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করে।
আধ্যাত্মিক ধৈর্য ও ধ্যান
লোকমান (আ.)-এর শিক্ষায় ধৈর্য ও আত্মসংযমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি মুসলিমের উচিত ধৈর্য ধারণ করা, কষ্ট সহ্য করা এবং জীবনের পরীক্ষাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ধৈর্যশীলতার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।
সামাজিক নৈতিকতা ও আচরণ
সূরায় সৎকাজ, মার্জিত আচরণ, কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণ, অহংকার পরিহার—সবই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
- বাংলাদেশে যারা অন্যকে ছোট করে বা বিদ্রুপ করে, তারা এই সূরার শিক্ষার মাধ্যমে সচেতন হতে পারে।
- সমাজে বিনয় ও নৈতিক চরিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।
আখিরাতের স্মরণ ও সতর্কতা
শেষ আয়াতগুলো আখিরাতের ভয় ও আল্লাহর সর্বজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যারা নিয়মিত সূরা লোকমান তেলাওয়াত করে এবং অর্থ বোঝে, তারা গুনাহ থেকে বিরত থাকে এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুত থাকে।
ব্যবহারিক পরামর্শ (বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে)
- নিয়মিত তেলাওয়াত: দৈনন্দিন জীবনে সূরা লোকমান নিয়মিত পড়ুন, বিশেষ করে সন্তানদের সঙ্গে।
- অর্থ বোঝা: শুধু মুখস্থ নয়, আয়াতের অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন।
- সামাজিক নৈতিকতা: অন্যকে ছোট করা, বিদ্রুপ বা নিন্দা এড়িয়ে চলুন।
- পরিবারে শিক্ষা: সন্তানদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষায় সূরার নির্দেশ বাস্তবায়ন করুন।
- আখিরাতের স্মরণ: আখিরাতের ভয় মনে রাখুন এবং দুনিয়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করুন।




