সূরা-হা-মীম-সেজদাহ্ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত
Share this
সূরা-হা-মীম-সেজদাহ্ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ফজিলত: সূরা ফুসসিলাত একটি মাক্কী সূরা। “ফুসসিলাত” শব্দের অর্থ—বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই সূরার শুরুতে আল্লাহ কুরআনের বিশদ ও সুস্পষ্ট বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন। এতে তাওহীদ, আখিরাত, কুরআনের সত্যতা, কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং মানবজাতির প্রতি আল্লাহর দাওয়াত অত্যন্ত শক্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ সূরার ৩৭ নম্বর আয়াতে সেজদাহর আয়াত রয়েছে। তাই একে “হা-মীম সেজদাহ” বলা হয়।
সূরা নম্বর: ৪১
আয়াত সংখ্যা: ৫৪
রুকু: ৬
নাজিলের স্থান: মক্কা
অন্য নাম: হা-মীম আস-সাজদাহ্, ফুসসিলাত
Read More:-
- মাগরিবের নামাজ কয় রাকাত
- যোহরের নামাজ কয় রাকাত
- তারাবির নামাজের নিয়ম দোয়া ও মোনাজা
- ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ
সূরা-হা-মীম-সেজদাহ্ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
অর্থ: পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আয়াত ১–৩
حم ۚ تَنزِيلٌ مِّنَ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ
উচ্চারণ: হা-মীম। তানযীলুম মিনার রাহমানির রাহিম। কিতাবুন ফুসসিলাত আয়াতুহু।
অর্থ:
হা-মীম।
এটি দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
👉 এখানে কুরআনের স্পষ্টতা ও আল্লাহর রহমতের ঘোষণা রয়েছে।
আয়াত ৬
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ
উচ্চারণ: কুল ইন্নামা আনা বাশারুম মিসলুকুম ইউহা ইলাইয়া
অর্থ: বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ; আমার প্রতি ওহি প্রেরণ করা হয়।
👉 রিসালাতের মূল ভিত্তি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আয়াত ১৩
এখানে আদ ও সামুদ জাতির শাস্তির কথা স্মরণ করানো হয়েছে—
যারা আল্লাহর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আয়াত ৩০
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযিনা ক্বালু রব্বুনাল্লাহু সুম্মাস্তাকামু
অর্থ: নিশ্চয় যারা বলে “আমাদের রব আল্লাহ” অতঃপর দৃঢ় থাকে—
👉 তাদের জন্য ফেরেশতারা নাযিল হয় এবং সুসংবাদ দেয়।
সেজদাহর আয়াত (৩৭)
وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ…
এ আয়াতে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের কথা বলা হয়েছে।
এ আয়াত তেলাওয়াত করলে বা শুনলে সেজদাহ দেওয়া সুন্নত।
আয়াত ৪৬
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ
অর্থ: যে সৎকর্ম করে, তা তার নিজের জন্য; আর যে মন্দ করে, তা তার নিজের বিরুদ্ধে।
সূরা-হা-মীম-সেজদাহ্ ফজিলত
সূরা হা-মীম-সেজদাহ্, যাকে সূরা ফুসসিলাত নামেও বলা হয়, কুরআনের ৪১ নম্বর সূরা। এতে ৫৪টি আয়াত রয়েছে এবং এর মধ্যে একটি সেজদাহর আয়াত রয়েছে। এই সূরা মূলত কুরআনের সত্যতা, তাওহীদ, নবী ও রিসালাত, কিয়ামত এবং আখিরাতের বার্তা নিয়ে বিস্তৃত। বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য এই সূরার ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা নিয়মিত তেলাওয়াত ও আধ্যাত্মিক জীবন অনুসরণ করেন।
ঈমান দৃঢ়করণ
সূরা হা-মীম-সেজদাহ্ নিয়মিত পাঠ করলে মানুষের ঈমান মজবুত হয়। এতে আল্লাহর একত্ব ও নবীদের সত্যতা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে যারা দৈনন্দিন জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক চাপে পড়েন, তারা এই সূরার তেলাওয়াত করে অন্তরে শান্তি ও দৃঢ়তা অনুভব করতে পারেন।
সেজদাহর ফজিলত
সূরার মধ্যে থাকা সেজদাহর আয়াত পড়া বা শুনার সময় সেজদাহ করা সুন্নত। এতে আল্লাহর নিকট বিনয় প্রকাশ হয় এবং সওয়াব অনেক বেশি। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের এই আয়াত মুখস্থ করিয়ে দিতে পারলে আধ্যাত্মিক অভ্যাস গড়ে ওঠে।
আখিরাত ও পুনরুত্থানের স্মরণ
সূরায় আখিরাতের বাস্তবতা ও কিয়ামতের ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে। নিয়মিত এই সূরা তেলাওয়াত করলে মুমিনরা মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে সচেতন হয় এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকে।
গুনাহ থেকে সতর্কতা
সূরার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বার্তা স্পষ্ট—শিরক, জুলুম ও অহংকার পরিহার করতে হবে। যারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, তাদের পূর্ববর্তী জাতির মতো ধ্বংস হবে। বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য এটি শিক্ষণীয় যে, দৈনন্দিন জীবনে সৎ ও ধার্মিক কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কুরআন অধ্যয়ন ও তেলাওয়াতের অনুপ্রেরণা
সূরা হা-মীম-সেজদাহ্ নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে কুরআনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। এটি শিশু, কিশোর, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক সব বয়সের মানুষের জন্য শিক্ষণীয়। পরিবারে একসাথে তেলাওয়াত করলে পরিবারের সকল সদস্য আল্লাহর নিকট আরও মঙ্গলপ্রদভাবে আবদ্ধ হতে পারে।
আমাদের শেষ কথা
সূরা হা-মীম সেজদাহ্ (সূরা ফুসসিলাত) একটি শক্তিশালী দাওয়াতের সূরা। এতে কুরআনের সত্যতা, তাওহীদের ঘোষণা, আখিরাতের বাস্তবতা এবং দৃঢ় থাকার নির্দেশ একত্রে রয়েছে। নিয়মিত তেলাওয়াত ও অনুধাবন করলে ঈমান মজবুত হয় এবং জীবন সঠিক পথে পরিচালিত হয়।




