একা নামাজ পড়ার নিয়ম

Share this

নামাজ শুরুর পূর্বে নিজেকে উত্তমরূপে পবিত্র করে নিবে। পবিত্রতা অর্জনের নিয়ম অত্র গ্রন্থে যথাস্থানে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্তভাবে ওযূর নিয়ম উল্লেখ করা হলো।

ওযূর প্রারম্ভে আল্লাহর দিকে মন রুজু করে নিবে। চিন্তা করে ঠিক করবে কেন ওযূ করা হচ্ছে। যেমন নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে ওযূ করা হলে মনে করতে হবে যে, নামাজ আদায় করা হল আল্লাহর দরাবারে উপস্থিত হওয়া, আল্লাহর দরবার পবিত্র, সেখানে অপবিত্র অবস্থায় গমন করা যায় না।

তাই আমি আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার লক্ষ্যে পবিত্রতা অর্জনের জন্য ওযূ করছি। এভাবে কোরআন তেলাওয়াতের জন্য ওযূ করা হলে একাগ্র মনে চিন্তা করবে যে, আমি আল্লাহর কালাম পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের উদ্দেশ্যে ওযূ করছি।

ওযূ করার সময় প্রকাশ্য নিয়াত বলার প্রয়োজন নেই। নিয়াত সম্পূর্ণ মনের ব্যাপার। সুতরাং সুন্নত তারিকা হল মনে মনে নিয়াত করা।ওযূ করার পূর্বে মেসওয়াক করা সুন্নত। কাজেই ওযূর পূর্বে ভাল করে মেসওয়াক করে নেবে।

তা সম্ভব না হলে কুলি করার সময় মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা উত্তম রুপে কমপক্ষে তিন  বার দাত ঘষবে।ওযূ শেষ করে পবিত্র পোশাক পরিধান করে জায়নামাজে দাড়িয়ে নিজেকে এভাবে প্রস্তুত করবে যে, আল্লাহ আমার সামনে আমি আল্লাহকে দেখছি।

আমি না দেখলও আল্লাহ আমাকে দেখছেন। দাড়ানোর সময় দুপা সসম্পূর্ণ কেবলা রোখ থাকে। মনে রাখবে দু পা দু সরল রেখার মত সোজা না রাখলে পা কখনো কেবলা রোখ থাকবে না।

অত:পর নামাজের নিয়ত করে মুখে আল্লাহু আকবার বলবে। সাথে সাথে পুরুষরা দু হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পেট দুকানের লতি বরাবর এবং মহিলারা উভয় হাত কাধ বরাবর উঠাবে। মহিলারা দু হাত বস্ত্রের ভেতর রাখবে, বাইরে রাখবে না।

একা নামাজ আদায় করার নিয়ম

দু হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের সাথে সুবিন্নস্তভাবে লাগানো থাকবে এবং হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো সোজা করে কেবলার দিকে রাখতে হবে। দেখা যায় অনেকে আঙ্গুলগুলো বাকা বা অর্ধ মুষ্টি করে রাখে, এটা ঠিক নয়।

এমনটা পরিহার করতে হবে। এ সময় নারী পুরুষ উভয়েরই দু হাতের পাতা অবশ্যই কেবলার দিকে থাকতে হবে। তাকবীরে তাহরীমা বলে পুরুষরা নাভীর নীচে এবং মহিলারা সীনার ওপর হাত বেধে দাড়াবে।

হাত বাধার নিয়ম হল পুরুষরা বাম হাতের তালু নাভির নিচে রাখবে এবং ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠের ওপর স্থাপন করে কনিষ্ঠা অঙ্গুলী এবং বৃদ্ধা অঙ্গুলি দ্বারা বা হাতের কব্জি ধরবে, অনামিকা, মধ্যমা এবং শাহাদাত অঙ্গুলি লম্বাভাবে বাম হাতের ওপরে বিছানো থাকবে।

মহিলারা কেবল উভয় স্তরে উপরি ভাগে বাম হাত নিচে রেখে তার ওপর ডান হাত রাখবে। এ সময় দৃষ্টি থাকবে সেজদার স্থানে। রাসূলুল্লাহ স. নামাজে মাথা নিচু এবং দৃষ্টি জমীনের উপর নিবদ্ধ রাখতেন। রাসূলুল্লাহ স. নামাজে দৃষ্টি আকাশের দিকে উঠাতে নিষেধ করেছেন।

তিনি বলেছেন, হয় লোকেরা নামাযে দৃষ্টি  আকাশের প্রতি উত্তল থেকে বিরত থাকবে নতুবা তাদের দৃষ্টি তাদের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। অথবা তাদের চোখ কেড়ে নেয়া হবে। আল্লাহর দৃষ্টি ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজী বান্দার দিকে থাকে যতক্ষণ সে এ দিক ওদিক না তাকায়। এদিক ওদিক তাকালে আল্লাহও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

অত:পর আউযু বিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ সম্পূর্ণ পাঠ করে আলহামদু সূরা পড়বে। পাঠ করার পর আমীন বলবে। তারপর পুনরায় বিসমিল্লাহ পড়ে যে কোন একটি সূরা পাঠ করবে। এরপর আল্লহু আকবার বলে রুকূতে যাবে।

দু হাত দিযে দু হাটু শক্তভাবে ধরবে। মাথা এবং মাজা সমান্তরাল থাকবে। দৃষ্টি থাকবে দু পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির দিকে। তারপর তিনবার, পাঁচ বার সাত বার বলবে…..

মহিলাদের রুকু করার নিয়ম হল, বাম পায়ের টাকনু ডান পায়ের টাকনুর সাথে মিলিযে মাথা নত করে উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো মিশানো অবস্থায় উভয় হাটুর ওপর হালকাভাবে রাখবে এবং হাতের বাজু ও কনুই দেহের সাথে মিলিয়ে রাখবে।

এভাবে রুকূ শেষ করার পর সামি আল্লা-হু লিমান হামিদাহ বলতে বলতে মাথা উঠিয়ে সোজা হযে দাড়াবে। দাড়িয়ে রব্বা লাকাল হামদ।

সেজদা দেয়ার নিয়ম হল, সিজদায় যাওয়ার সময় মাজা থেকে উপরের অংশ সোজা রেখে প্রথমে মাঠিতে উভয় হাটু রাখবে, এরপর উভয় হাতের পাতা এমনভাবে রাখবে যেন সিজদা দিলে হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় কান বরাবর থাকে এবং নাক বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয়ের মাঝখানে থাকে।

এরপর প্রথমে নাক ও পরে কপাল রেখে মাথা মাটিতে ভালভাবে লাগিয়ে রাখবে। সিজদার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নাক অবশ্রই মাটির মাথে লাগানো থাকতে হবে। সেজদায় সময় দু হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কান বরাবর থাকবে এবং নাক থাকবে বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয়ের মাঝখানে এবং উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ লিলিতাবস্থায় ক্বেবলারোখ করে এবং দু পা মিরিয়ে অঙ্গুলিসমূহ ক্বেবলার দিকে রেখে পায়ের পাতা খাড়া করে রাখবে।

আর মহিলারা দু পায়ের পাতা ডান দিকে বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে এবং যতদূর সম্ভব আঙ্গুলের মাথাগুলো কেবলা মুখী করে রাখবে।পুরুষরা সেজদা করার সময় উভয় পা  মলিয়ে রাখবে। এ সময় আঙ্গুলগুলো কেবলা রোখ থাকেব। হাটু থেকে মাথা যথেষ্ট দূরে থাকবে। হাতের কব্জির উপরের অংশ কনুই মাটি থেকে উপরে থাকবে।

পেট উরু হতে এবং রাজু বোগল হতে পৃথক থাকবে। মাঝা এত পরিমান উচু করে রাখতে হবে যেন একটি বকরীর ছোট বাচ্চা আনায়াসে পেটের নিচ দিয়ে যেতে পারে। পক্ষান্তরে মহিলারা সর্বাঙ্গ মিলিত অবস্থায় সেজদা করবে, মাথা হাটুর নিকটবর্তী রাখবে উরু পায়ের নলার সাথে ও হাতের বাজু দেহের সাথে মিলিয়ে রাখবে।

আরো পড়ুন: জামাতে নামাজ পড়ার নিয়ম

সেজদায় অন্তত তিনবার, পাচবার, কিংবা সাতবার ( সুবহা-না রব্বিয়াল আলা) বলতে হবে।এর পর আল্লাহু আকবার বলে মাথা তুলে ঠিক সোজা হয়ে বসবে। স্থির হয়ে বসার ( এ সময় পড়তে হবে- আল্লা-হুম্মাগাফেরলী ওয়ার হামনী ওয়া আফেনী ওয়ার যুক্বনী ওয়াহ দিনী পড়বে।)

পরে আল্লা-হু আকবার বলে পূর্বের ন্যায় সেজদা করবে। দ্বিতীয় সেজদায় উল্লিখিত তাসবীহ তিন, পাঁচ অথবা সাত বার বলবে। এভাবে সেজদার পর আল্লা-হু আকবার বলে মাথা উঠিয়ে সোজা হযে দাড়ানেরা সময় বসবে না বা হাত দিয়ে ঠেক লাগাবে না।

দ্বিতীয় সেজদা হতে মাথা উঠানোর সময় আল্লাহু আকবার বলে সোজা হয়ে দাড়াবে। দ্বিতীয় রাকাতে নামাজ যখন আরম্ভ করবে তখন পুনরায় বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলে আলহামদু সূরা পড়ার পর অন্য যে কোন একটি সূরা পাঠ করে প্রথম রাকাতের ন্যয় রুকূ,সেজদা করে দ্বিতীয় রাকাত পূর্ণ করবে।

সূরা পড়ার সময় সূরার ধারাবাহিকতার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। যেমন প্রথম রাকাতে আলামতারা পড়লে দ্বিতীয় রাকাতে লিঈলাফি সূরা পড়বে। লিঈলাফি সূরা বাদ দিযে আরাইতাল্লাযী সূরা পড়লে মাকরূহ হবে। বাদ দিতে হলে কমপক্ষে দু সূরা বাদ দিয়ে পরের সূরা পড়বে।

আবার প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় সেজদা থেকে যখন মাথা তুলবে তখন পুরুষরা বাম পায়ের পাতা বিছিয়ে তার ওপর বসবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে এবং পায়ের আঙ্গুলীসমূহ ক্বেবলারোখ করে রাখবে আর নারীরা উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বের করে দিয়ে মাটিতে বসবে। এভাবে বসে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তাশাহুদ পড়বে।

নামাজ যদি তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট হয় তবে আবদুহু ওয়া রাসূলুহু পর্যন্ত পাঠ করে আর বসবে না, সাথে সাথে আল্লাহু আকবার বলে উঠে দাড়াবে এবং পূর্বের নিয়মানুসারে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকয়াত পূর্ণ করবে। কিন্তু সুন্নাত, নফল ও ওয়াজিব নামাজ হলে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে পড়বে এবং ফরজ নামাজ হলে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে অন্য সূরা মিলাতে হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.