ইসলাম

সাত ভাগে কুরবানী দেওয়ার হাদিস

Share this

সাত ভাগে কুরবানী দেওয়ার হাদিস: আমাদের সমাজে বর্তমানে চলমান যে প্রথাটি রয়েছে সেটি হচ্ছে সাত ভাগে কুরবানী। তবে অনেকেই সাত ভাগে কুরবানী দেওয়ার হাদিস সম্পর্কে জানতে চাই। কেননা অনেকেই জানে না সাত ভাগে কুরবানী দেওয়ার হাদিস যার ফলে তারা মূলত বিশ্বাস করতে পারেনা বিষয়টির উপর। তাই আমরা আজকে এই আর্টিকেলটিতে আপনাদের সাথে সাত ভাগে কুরবানী দেওয়ার হাদিস সম্পর্কে বর্ণনা করবো।

সাত ভাগে কুরবানী দেওয়ার হাদিস

অবশ্যই সাতভাগে কুরবানী করা যাবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন ধরনের ব্যক্তির সঙ্গে কুরবানী করা হচ্ছে কিংবা কার সাথে কুরবানী করছেন সে বিষয়টি সম্পর্কে আগে আপনাকে ভেবে নিতে হবে। এমন কোন ব্যক্তির সঙ্গে কুরবানী করা যাবে না যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে না এবং যাকাত প্রদান করে না এবং ইসলামের কোন বিধি-নিষেধ সে পালন করে না। 

ইমাম শাফেয়ী (রঃ) বলেছেন, “শরীকরা যদি সাতজন অপেক্ষা কম হয়, তাহলেও তা যথেষ্ট। অতিরিক্ত ভাগ দিয়ে তারা নফল করে। যেমন যাকে ছাগল দিতে হবে, সে যদি উট দেয়, তাহলে তাও যথেষ্ট হবে। আর ছাগল থেকে যা বেশি, তা হবে নফল।” ৪৬০ (কিতাবুল উম্ম ২/২৪৪)

কাসানী বলেন, “এতে কোন সন্দেহ নেই যে, গরু কিংবা উট সাতজনের কম ব্যক্তির তরফ থেকেও কুরবানী বৈধ। যেমন একটি গরু বা উটে ২, ৩, ৪, ৫ বা ৬ জন শরিক হতে পারে। যেহেতু যখন সাত ভাগের এক ভাগ কুরবানী বৈধ, তখন তার বেশি অধিকরূপে বৈধ। চাহে তাদের সকলের অংশ একই রকম হোক অথবা ভিন্ন রকম। যেমন কারো অর্ধেক, কারো তিন ভাগের এক ভাগ এবং কারো ছয় ভাগের এক ভাগ; অবশ্য সাত ভাগের এক ভাগ থেকে কম যেন কারো না হয়।” ৪৬১ (বাদাইয়ুস স্বানায়ি ৫/১৭)

Read More:-

অর্থাৎ এখান থেকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে কুরবানী করতে হবে যার মনে সত্যিকার অর্থে ইসলামের জ্ঞান রয়েছে এবং যে সত্যিকার অর্থে সালাত আদায় করে। কেউ যদি ঘুষ খায় দুর্নীতি করে এবং প্রকাশের সে বিষয়ে সম্পর্কে আপনি অবহিত থাকেন এবং তার সঙ্গে কুরবানী দেন তাহলে অবশ্যই আপনার কুরবানী কবুল নাও হতে পারে।

সুদখোর, ঘুষখোর কিংবা দুর্নীতির বাজ মানুষের সঙ্গে কুরবানী দেওয়া কখনোই যাবে না। একজন সঠিক মানুষ যে মানুষ নিয়মিত সালাত আদায় করে আল্লাহর পথে চলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকল বিধি নিষেধ মেনে চলে তার সাথে অবশ্যই কুরবানী দেওয়া যাবে।

কিন্তু যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করবেন নিজে নিজে একা কুরবানী দেওয়ার এবং কোরবানির মাংস সঠিকভাবে বিতরণ করার যাতে করে কারো কোন অংশে কম না হয়। আর কুরবানির মাংস নিজে অবশ্যই রেখে মানুষের জন্য দান খয়রাত করতে হবে। শুধু যে তিনভাগের দুই ভাগ দান করা যাবে তা নয়। যদি আপনি সামর্থ্যবান হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আরো বেশি কুরবানী করতে পারেন যত আপনার সামর্থ্য রয়েছে।

আমাদের শেষ কথা

আশা করি আপনি এই সাত ভাগে কুরবানী দেওয়ার হাদিস বুঝে গেলেন। বন্ধুদের সাথে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন এতে তারাও উপকৃত হবে ইনশআল্লাহ। অবশ্যই মনে রাখবেন সাত ভাগে কুরবানী দেওয়া যাবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই এবং আমি যেসব বিষয়গুলো আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করলাম সেগুলো আমরা অনলাইন থেকে কিংবা বিভিন্ন বড় বড় আলেমদের লেকচার গবেষণার মাধ্যমে উল্লেখ করেছি। যদি এখানে কোন তথ্য আপনার ভুল মনে হয় তাহলে অবশ্যই অনায়াসে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন কিংবা কমেন্ট সেকশনটিতে আপনার মতামত জানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *