পানি পাক-নাপাকের মাসায়েল

Share this

পানির মধ্যে স্পষ্ট কোন নাপাকী পরিলক্ষিত না হলে কিংবা কোন । যুক্তিসংগত কারণও না থাকলে নিছক সন্দেহ প্রবন হয়ে কোন স্থান বা পাত্রের পানি নাপাক বলা যাবে না।

এ কোন পুকুর-পুষ্করিণীতে গাছের পাতা পড়ার কারণে পানির যে তিনটি গুণ অর্থাৎ- রং, গন্ধ এবং স্বাদ এর কোন একটি কিংবা তিননাটি পরিবর্তন হয়ে গেলেও ঐ পানি পাক থাকবে।

তা দিয়ে গােসল উভয় জায়েয। অজু- ১০০ বর্গহাতের হাউস বা কুপ যার গভীরতা চুলু তথা কোষ ভরে পানি উঠাতে মাটি বা তলা দেখা যায় না, এই ধরণের হাউস বা কুপে এমন নাপাকী পড়লে যা পড়ার সাথে সাথে আর দেখা যায় না।

যেমন-প্রস্রাব, রক্ত, শরাব ইত্যাদি, তবে ঐ পানি নাপাক হবে না। আর যদি এমন কোন নাপাকী পড়ে যার কারণে ঐ হাউস বা কুপের পানির রং, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে ঐ পানি নাপাক হয়ে যাবে।

হাউস বা কুপ উল্লেখিত পরিমাপের চেয়ে ছােট হলে তাতে যে কোন ধরণের নাপাকী পড়লে ঐ পানি নাপাক হয়ে যাবে। ও যে পনিতে কোন পাক পাত্র কিংবা চাউল-তরকারী ধােয়া হল, অথবা পাক কাপড় চুবড়ানাে হল, এতে পানির কোন একটি গুণ |

আরো পড়ুন: গোসলের সুন্নত সমূহ

পরিবর্তন হল অথবা কিছুই পরিবর্তন হয়নি। এ পানি দিয়ে অজু গােসল উভয় জায়েয। মশা, মাছি, বােলতা, ভীমরুল, বিচ্ছ ইত্যাদি যে সব প্রাণীর মধ্যে প্রবাহমান রক্ত নেই সে সব প্রাণী পানিতে মরে থাকলে বা বের থেকে মরে পানিতে পড়লে তাতে পানি নাপাক হবে না।  

ব্যবহৃত পানি (মায়ে মুস্তামল) যদি শরীর বা কাপড়ে লাগে, তাতে শরীর বা কাপড় নাপাক হবে না। তবে তা দিয়ে অজু-গােসল করা যাবে না বা কোন নাপাক জিনিস ধুয়ে পাক করা যাবে না। ঐ পানি নিজে নিজে পাক বটে কিন্তু অপরকে পাক করতে পারে না।

যে পানিতে কিছু মিশানাের পর যদি সাধারণতঃ তাকে আর পানি বলা যায় না তা দিয়ে অজু-গােসল জায়েয হবে না। যেমন- শরবত, শুরবা অথবা যে কোন বানানাে পানীয়।

মুসলিম, অমুসলিম, নারী-পুরুষ স্বাভাবিক অবস্থায় কিংবা নাপাকী অবস্থায় হউক না কেন সবার পানীয় বা খাদ্য ঝুটা অর্থাৎ মুখে লাগায়ে ত্যাগ করলে তা নাপাক হবে না।

গুরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, হরিণ ইত্যাদি হালাল পশু এবং কবুতর, চড়ুই, ঘুঘু, ময়না ইত্যাদি হালাল পাখীর ঝুটা পাক। অনুরুপভাবে ঘােড়ার ঝুটাও নাপাক নয়।

আরো পড়ুন:- নামাজ না পড়ার শাস্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published.