সহবাসের দোয়া বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ
Share this
সহবাস শব্দটি আরবি ভাষায় “জিমা” নামে পরিচিত, যার বাংলা অর্থ একসঙ্গে বসবাস করা। তবে এটি সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার শারীরিক মিলন বা দাম্পত্য সম্পর্কের অন্তরঙ্গতাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রী সহবাসের দোয়া পড়ে সহবাস করা একটি পবিত্র ও বৈধ সম্পর্ক, যা শুধু শারীরিক চাহিদা পূরণের উপায় নয়; বরং দাম্পত্য জীবনে প্রেম, শান্তি এবং পারস্পরিক সমঝোতাকে সুদৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম।

Table of Contents
- সহবাসের দোয়া বাংলায় উচ্চারণ অর্থসহ
- সহবাসের উত্তম দিন এবং সময়
- সহবাসের নিষিদ্ধ সময়
- নিয়মিত সহবাসের উপকারিতা
- সুসন্তান লাভের উপায়
- সহবাসে সক্ষম হবার উপায়
- অধিক সময় ধরে সহবাসের উপায়
- পিরিয়ডের কতদিন পর সহবাস করলে গর্ভবতী হয়
- মাসিকের কত দিন পর সহবাস করলে গর্ভবতী হয় না
- মাসিক হওয়ার কতদিন পর সহবাস করলে ছেলে সন্তান হয়
- ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায়
- গর্ভাবস্থায় সহবাসের নিয়ম
- গর্ভাবস্থায় আমল ও দোয়া
- গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা ফর্সা হয়
- কতক্ষণ সহবাস করা উচিত
- রোজায় সহবাসের নিয়ম
- সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি
সহবাসের দোয়া বাংলায় উচ্চারণ অর্থসহ
ইসলামে স্ত্রী সহবাসে দোয়া পড়া সুন্নত হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি শুধু একটি ইবাদতই নয়, বরং দাম্পত্য সম্পর্ককে বরকতময় ও কল্যাণমণ্ডিত করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই দোয়ার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী শয়তানের কুমন্ত্রণা ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা লাভ করে। সহবাসের আগে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কোমল আচরণ করা দাম্পত্য জীবনে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।
সাহবাসের দোয়া বাংলা উচ্চারণ

এই দোয়া পাঠান্তে স্বামী-স্ত্রীর বৈধ মিলনে অত্যাধিক সওয়াব রয়েছে, এবং আল্লাহর রহমতে সেই মিলন থেকে জন্মগ্রহণকারী সন্তান শয়তানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকবে।
সহবাসের পরের দোয়া
সহবাসকালে স্ত্রীর যৌনাঙ্গের দিকে দৃষ্টিপাত করা এবং অধিক কথা বলা অনুচিত । সহবাসকালে পুরুষ স্ত্রী উভয়ের প্রতি সহানুভূতিপূর্ণ সজাগ দৃষ্টি রেখে চরম পুলকলাভে সাহায্য করবে। স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের পর নিচের দোয়াটি পড়া উত্তম।

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী জাআ’লা মিনাল মায়ি বাশারা । অর্থ ঃ সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্ পাকের জন্যে, যিনি তরল পানি (বীর্য) হতে মানুষ সৃষ্টি করেন ।
আরো পড়ুন:- স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধির দোয়া
সহবাসের উত্তম দিন এবং সময়
- রবি,সোম, এবং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্র সহবাসের উত্তম তারিখ । এই সমস্ত তারিখে সন্তান জন্মিলে তা উত্তম সন্তান হয় ।
- শেষ রাত্র সহবাসের জন্য উত্তম সময়। কারণ, এই সময় মানুষের উদরস্থ খাদ্যাদি হজম হয়ে শরীরে সুস্থ অবস্থা এবং সামর্থ থাকে । আতএব এ সময়ের সহবাস আরামদায়ক ও উপকারী। অর্থাৎ তাতে স্বামী-স্ত্রীর স্বাস্থ্য ভাল স্বাভাবিক থাকে । তা ছাড়া এ সহবাসে সন্তান জন্মিলে তা স্বাস্থ্যবান, হৃষ্টপুষ্ট বলবান ও মেধাসম্পন্ন হয় ।
- ঋতুস্রাব হতে মুক্ত হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহের সহবাসের সন্তান দূর্বল শক্তিহীন ও স্বল্পয়ু হয়। এর পরবর্তী সময়ের সন্তান বলবান, মেধা সম্পন্ন হয়। আর এরূপ দ্বিতীয় সপ্তাহের সহবাসের যে সন্তান শুক্রবার জন্মগ্রহণ করে সে মহা সৌভাগ্যশালী হয় ।
আরো পড়ুন: তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত | তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম
সহবাসের নিষিদ্ধ সময়
- রাত্রে খাবার পরে অন্ততঃ তিন ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ মধ্যরাত পর্যন্ত সহবাস করা উচিত নয়। প্রবাসযাত্রার রাত্রে, পূর্ণিমা, অমাবস্যার রাত্রে, চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণকালে সহবাস করা অনুচিত।
- ভোর বেলা, সন্ধ্যাবেলা, কোন বিপদাপদের মধ্যে, সূর্যকিরণে, উপর অনাবৃত্ত স্থানে কিংবা লোকজন বসা থাকলে সহ- বাস করবে না । ঘুমন্ত শিশু হঠাৎ জেগে পিতামাতার এ দৃশ্য দেখে ফেলতে পারে, যাতে তার শিশুমনে প্রশ্ন ও ভাবের উদয় হয়, এরূপ সহবাস সন্তান বা পিতামাতা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয় ।

নিয়মিত সহবাসের উপকারিতা
সুস্থ শরীর ও মন নিয়ে নিয়মিত পরিমিত সহবাস করলে শরীরে বলবীর্য বৃদ্ধি পায়। রোগব্যধি দূরীভূত হয় । মনে প্রফুল্লতা এবং শান্তি বৃদ্ধি পায় । কাজকর্মে উৎসাহ জন্মে। মনের স্নেহমমতা ইত্যাদি সুবৃত্তিগুলির স্বাভাবিক অবস্থা বজায় থাকে।
ঈমান মজবুত থাকে, ধর্মে-কর্মে মন আকৃষ্ট হয়। তা ছাড়া সুস্থ শরীরে নিয়মিত সহবাস করলে পাঁচড়া, বিখাউজ, রক্তদৃষ্টি ইত্যাদি রক্তঘটিত পীড়া হতে মুক্ত থাকা যায়। নিয়মিত সহবাসে বাধাপ্রাপ্ত হলে অর্থাৎ যৌনাকাঙ্খ অতৃপ্ত থাকলে বা অতিরিক্ত কম যৌন মিলনে যৌন উন্মাদনা প্রভৃতি রোগ জন্মাতে পারে ।
সুসন্তান লাভের উপায়
পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর নিম্নোক্ত আয়াত শরীফ তিন বার করে পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে তার সুসন্তান নসীব হবে।

উচ্চারণ : রাব্বি লা তাযারনী ফারদাওঁ ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসীন রাব্বি হাব লী মিল্লাদুনকা যুররিয়্যাতান তাইয়্যিবাতান ইন্নাকা সামীউদ্দোআ ।
সহবাসে সক্ষম হবার উপায়
কোন কারণে সহবাসে অক্ষম হলে নিচের দোয়াটি পড়তে পারেন-
، بَنَيْنُها بِايْدِ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ وَالْاَرْضَ فَرَشْنهَا
উচ্চারণ : ওয়াসসামাআ বানাইনাহা বিআইদিওঁ ওয়া ইন্না লামুসিউন। ওয়াল আরদা ফারাশনাহা ফানিমাল মাহিদুন।
অর্থ ঃ সিদ্ধ ডিমের খোসা ছাড়িয়ে ঐ ডিমের উপর উপরোক্ত আয়াতটি লিখে পুরুষ খাবে এবং স্ত্রীকেও খাওয়াবে। আল্লাহর ইচ্ছায় উভয়ে সহবাসে পূর্ণ সফলতা লাভ করবে।
অধিক সময় ধরে সহবাসের উপায়
দাম্পত্য জীবনে সুস্থ ও পরিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সহবাসের সঠিক পদ্ধতি ও সুন্নত অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় সহবাসের জন্য নিচের উপায় গুলো অনুসরণ করুন-
দোয়া পড়ুন: সহবাসের আগে ও পরে দোয়া পড়া সুন্নত। এটি সম্পর্ককে বরকতময় করে এবং শয়তানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন: শারীরিক সক্ষমতা ও সহবাসের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা জরুরি যেমন:- বাদাম, মধু, কালোজিরা, খেজুর, এবং দুধ সহবাসের শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
পারস্পরিক সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিন: সহবাসের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মানসিক ও শারীরিক তৃপ্তি নিশ্চিত করা দরকার। একে অপরের চাহিদা বোঝা ও পরস্পরের প্রতি যত্নশীল থাকা সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও রোমান্সকর করে তুলে-
ফোরপ্লে করা: সহবাসের আগে পর্যাপ্ত সময় ফোরপ্লেতে ব্যয় করলে মিলনের সময় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এটি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য বেশি আনন্দদায়ক হয় এবং যৌনজীবনকে পরিপূর্ণ করে।
মাঝে মাঝে বিরতি নিন: যদি দ্রুত পতনের সমস্যা হয়, তাহলে মাঝে মাঝে থেমে গিয়ে পুনরায় শুরু করতে পারেন। এটি সহবাসের সময় বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
এভাবে সুন্নত ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করে সহবাস করা শুধু শারীরিক চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়, বরং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গভীর ভালোবাসা ও মানসিক সংযোগ তৈরি করে, যা দাম্পত্য জীবনকে সুখী ও পরিপূর্ণ করে তোলে।
আরো পড়ুন: তাশাহুদ দুরুদ শরীফ দোয়া মাসুরা
পিরিয়ডের কতদিন পর সহবাস করলে গর্ভবতী হয়

একজন নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে ওভুলেশন পিরিয়ডের সময়। অর্থাৎ পিরিয়ড শুরুর ১২–১৬ দিন সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
যদি গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকে, সেক্ষেত্রে পিরিয়ডের ১২–১৬ দিনের মধ্যে সহবাস করা সবচেয়ে কার্যকর।
মাসিকের কত দিন পর সহবাস করলে গর্ভবতী হয় না
যদি গর্ভধারণ এড়াতে চান, তাহলে মাসিক চক্রের এমন কিছু সময় আছে যখন সহবাস করলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। গর্ভধারণ এড়াতে চাইলে মাসিকের প্রথম ৭ দিন এবং ওভুলেশন শেষ হওয়ার ৩-৪ দিন পর থেকে পরবর্তী মাসিক শুরুর আগ পর্যন্ত সহবাস করা নিরাপদ।
তবে এটি সব নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ মাসিক চক্র ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
মাসিক হওয়ার কতদিন পর সহবাস করলে ছেলে সন্তান হয়
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পিতা বা পুরুষের শুক্রাণু মূল ভূমিকা রাখে। ওভুলেশনের কাছাকাছি সময় ১৪-১৬তম দিন সহবাস করলে ছেলে সন্তানের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কারণ:ওভুলেশনের কাছাকাছি সহবাস করলে Y-শুক্রাণু দ্রুত ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে পারে, ফলে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
বিজ্ঞান সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে কিছু অনুমান করতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে।
ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায়
ইসলামে মাসিক চলাকালীন সহবাস করা হারাম। তবে, মাসিক সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরই সহবাসের অনুমতি রয়েছে।
- মাসিক চক্র সাধারণত ৩–৭ দিন স্থায়ী হয়।
- যার মাসিক যতদিন চলে, ততদিন সহবাস নিষিদ্ধ।
মাসিক শেষ হওয়ার পর সহবাসের আগে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। সহবাসের আগে ও পরে দোয়া পড়া সুন্নত।
গর্ভাবস্থায় সহবাসের নিয়ম

গর্ভাবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও মধুর করতে সহবাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি স্ত্রীর মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে ।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গর্ভাবস্থায় সহবাস
ইসলামে গর্ভাবস্থায় সহবাস বৈধ, তবে স্ত্রী ও সন্তানের সুস্থতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কুরআন ও হাদিসে গর্ভাবস্থায় সহবাস নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে লক্ষ্য রাখবেন যদি স্ত্রীর কোনো কষ্ট হয়, তবে সহবাস থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ
গর্ভাবস্থায় সহবাস সাধারণত নিরাপদ এবং কখনো কখনো উপকারীও হতে পারে।
প্রথম তিন মাস: গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।
শেষের মাসগুলো (৮ম-৯ম মাস): গর্ভধারণ পূর্ণতা পায়, তাই বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যদি কোনো শারীরিক জটিলতা থাকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্ত্রীর স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল থাকা: শারীরিক অবস্থা বুঝে সহবাস করা এবং অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করা।
আরো পড়ুন: পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে
গর্ভাবস্থায় আমল ও দোয়া
গর্ভাবস্থায় করণীয় আমল ও দোয়া
গর্ভাবস্থা নারীর জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত ও নিয়ামত। এই সময়ে ভালো আমল, ইবাদত ও দোয়া মায়ের জন্য যেমন কল্যাণকর, তেমনই অনাগত সন্তানের জন্যও বরকত নিয়ে আসে।
- গর্ভাবস্থায় করণীয় আমল
- নিয়মিত নামাজ আদায় করা
- পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা
- বেশি বেশি দান-সদকা করা
- গর্ভাবস্থায় মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা
- সুরা ইউসুফ ও সুরা মারিয়াম তিলাওয়াত করা
- হারাম ও অবৈধ বিষয় থেকে দূরে থাকা
গর্ভাবস্থায় করণীয় দোয়া
- সন্তানের নেককার হওয়ার জন্য দোয়া
- সন্তানের সুস্থতার জন্য দোয়া
- দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য দোয়া:
গর্ভাবস্থা বেশি বেশি ভালো আমল, ইবাদত ও দোয়া করা উচিত। মায়ের সওয়াব যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতও আল্লাহর রহমতে শুভ হবে।
গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা ফর্সা হয়
শিশুর গায়ের রং মূলত জিনগত কারণে নির্ধারিত হয়। তবে, গর্ভাবস্থায় সঠিক পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও সুন্নত আমল করলে শিশুর ত্বক স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। নিচে এমন কিছু খাবার ও আমল উল্লেখ করা হলো, যা শিশুর ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সহায়ক হতে পারে। শিশুর উজ্জ্বল ত্বকের জন্য উপকারী খাবার
- দুধ
- নারকেল পানি
- আজওয়া খেজুর ও মধু
- কাঠবাদাম
- ফল ও সবুজ শাকসবজি
- গাজর
- আয়রন ও ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার
গর্ভাবস্থায় করণীয় আমল ও দোয়া
- সুরা ইউসুফ বেশি বেশি তিলাওয়াত করা
- সুরা মারিয়াম তিলাওয়াত করা
- আয়াতুল কুরসি, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে নিজের ও সন্তানের ওপর দম করা।
- গুনাহ থেকে বিরত থাকা ও ভালো কাজ করা।
- নিয়মিত নামাজ পড়া ও আল্লাহর রহমতের জন্য দোয়া করা।
শিশুর গায়ের রং জেনেটিক কারণে নির্ধারিত হলেও, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও আত্মিক আমল করলে শিশুর ত্বক উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর হতে পারে।
কতক্ষণ সহবাস করা উচিত
সহবাসে দুজনেরই পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ও আধুনিক গবেষণার আলোকে কতক্ষণ সহবাস করা উচিত, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
- সাধারণত ১০-২০ মিনিটের সহবাস স্বাভাবিক ও তৃপ্তিদায়ক বলে মনে করা হয়।
- ফোরপ্লে: ১০-৩০ মিনিট
- মূল সহবাসের সময়: ৫-২৫ মিনিট
- সহবাসের পর আদর ও বিশ্রাম: ৫-১৫ মিনিট
গবেষণা অনুযায়ী, অধিকাংশ দম্পতির জন্য ৭-১৫ মিনিটের সহবাস যথেষ্ট তৃপ্তিদায়ক। সহবাসের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও, স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের জন্য এটি স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক ও তৃপ্তিদায়ক হওয়া উচিত।
রোজায় সহবাসের নিয়ম
রোজা পালনকালীন দিনের বেলায় সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। তবে, সূর্যাস্তের পর ইফতার সম্পন্ন হলে এবং সেহরির সময়ের আগ পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী বৈধভাবে সহবাস করতে পারেন। ইসলামিক শরিয়ত অনুযায়ী, এই সময়ে সহবাস করা অনুমোদিত।

তবে, যদি কেউ ইতেকাফে থাকেন, তাহলে দিনের পাশাপাশি রাতেও সহবাস সম্পূর্ণ হারাম। ইতেকাফের সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ। সুতরাং, রোজার অবস্থায় দিনের বেলায় সহবাস করা নিষিদ্ধ, তবে রাতের বেলা অনুমোদিত, যদি কেউ ইতেকাফে না থাকে।
আরো পড়ুন: ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ
সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি
হ্যাঁ, সহবাসের পর সেহরি খাওয়া সম্পূর্ণ বৈধ ও হালাল। তবে এক্ষেত্রে শুদ্ধতার জন্য গোসল করা আবশ্যক। যদি সময় স্বল্পতা থাকে, তাহলে প্রথমে সেহরি খেয়ে নেওয়া যেতে পারে, এরপর গোসল করা সম্ভব। তবে ফজরের আগে অবশ্যই গোসল সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পবিত্র অবস্থায় নামাজ আদায় করা যায়।
সুতরাং, সহবাসের পর সেহরি খাওয়ায় কোনো বাধা নেই, তবে নামাজের আগে গোসল করে নিজেকে পবিত্র করা অত্যাবশ্যক।