আসরের নামাজ কয় রাকাত
Share this
আসরের নামাজ প্রতিদিন দুপুর ও সন্ধ্যার মাঝামাঝি সময়ে আদায় করা হয়। আসরের নামাজের সময় শুরু হয় যোহরের পর এবং সূর্য হেলে পড়া পর্যন্ত থাকে। সূর্যাস্তের একেবারে কাছাকাছি সময়ে আসরের নামাজ পড়া মাকরূহ। আসরের নামাজ মোট আট রাকাত, যার মধ্যে চার রাকাত পড়া সুন্নত এবং চার রাকাত পড়া ফরজ।
আসরের নামাজের সময়
আসরের নামাজের সময় যোহরের নামাজের সময় শেষ হওয়ার পর শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে, সূর্যের রং হলুদ হওয়ার আগেই আসরের নামাজ আদায় করা উচিত।
ইমাম শাফেয়ি, মালিকি এবং হাম্বলি মতে, যখন বস্তুর ছায়া তার প্রকৃত দৈর্ঘ্যের সমান হয়, তখন আসরের সময় শুরু হয়। আর ইমাম হানাফি মতে, যখন বস্তুর ছায়া তার প্রকৃত দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ হয়, তখন আসরের সময় শুরু হয়।
Read More:-
- মাগরিবের নামাজ কয় রাকাত
- যোহরের নামাজ কয় রাকাত
- তারাবির নামাজের নিয়ম দোয়া ও মোনাজা
- ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ
আসরের নামাজের নিয়ম
আসরের নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। এটি প্রতিদিন দুপুরে আদায় করতে হয় এবং এতে চার রাকাত ফরজ ও চার রাকাত সুন্নত নামাজ রয়েছে। তবে, কেউ চাইলে চার রাকাত সুন্নত না পড়লেও হবে। নিচে আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ম দেওয়া হলো-
অজু করে নিন: যে কোন নামাজের জন্য অজু বাধ্যতামূলক। তাই শুরুতে অজু করে নিন।
কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ান: কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ান।
নিয়ত করুন: আসরের নামাজের নিয়ত করুন।
তাকবির তাহির (নামাজ শুরু): “আল্লাহু আকবার” বলে নামাজ শুরু করুন।
সানা পড়ুন: “সুবহানাকাল্লাহুম্মা…” (পূর্ণ সানা) পড়ুন।
সূরা ফাতিহা এবং অন্য সূরা: প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর, অন্য কোনো ছোট সূরা (যেমন, সূরা কাউসার, ইখলাস অথবা তিন আয়াতের অন্য কোনো সূরার অংশ বিশেষ পড়া)।
রুকু ও সেজদা: রুকু এবং সেজদা করুন এবং যথাযথ দোয়া পড়ুন।
দ্বিতীয় রাকাতের নিয়ম:
সোজা দাঁড়িয়ে আবার সূরা ফাতিহা এবং অন্য কোনো সূরা পড়ুন। রুকু এবং সেজদা করুন। দুই রাকাত শেষে আতাহিয়্যাত (তাশাহহুদ) পড়ুন। তাশাহহুদ পড়ার পর সরাসরি দাঁড়িয়ে যান (এ সময়ে দুরূদ ও দোয়া পড়া হবে না)।
তৃতীয় রাকাতের নিয়ম: সোজা দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা পড়ুন (এখানে অন্য সূরা পড়া যাবে না)। রুকু এবং সেজদা করুন।
চতুর্থ রাকাতের নিয়ম: আবার সূরা ফাতিহা পড়ুন (এখানে কোনো সূরা যোগ করার প্রয়োজন নেই)। রুকু এবং সেজদা করুন।শেষ বৈঠক: আতাহিয়্যাত পড়ুন, তারপর দরুদ শরিফ এবং দোয়া মাসূরা পড়ুন। ডান এবং বাম দিকে সালাম ফিরান।
আসরের নামাজের নিয়ত
আসরের নামাজ মোট আট রাকাত, যার মধ্যে চার রাকাত ফরজ এবং চার রাকাত সুন্নত। নিচে চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত আরবি, বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থসহ উল্লেখ করা হলো:

বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ। আমি কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
আসরের নামাজে চার রাকাত সুন্নত নামাজ রয়েছে, নিচে চার রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ত আরবি বাংলা এবং অর্থসহ দেওয়া হলো-

বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে আসরের চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি। আমি কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
আসরের কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম
যদি কোনো কারণে আপনি আসরের ফরজ নামাজ সময়মতো আদায় না করতে পারেন তবে পরে তা কাজা আদায় করতে হয়, ইসলাম এর অনুমতি দিয়েছে। আসরের কাজা নামাজ পড়ার সময় সাধারণ নামাজের নিয়মই অনুসরণ করতে হবে। তবে, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফরজ চার রাকাত নামাজই কাজা পড়তে হবে।
আসরের নামাজের ফজিলত
আসরের নামাজ ইসলামের পাঁচটি ফরজ নামাজের তৃতীয় নামাজ এবং এর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এই নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়।
বিশ্বাস এবং ইমানের প্রমাণ: আসরের নামাজ একজন মুমিনের ইমানের শক্তি এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ দেয়। আসরের নামাজ নিয়মিতভাবে আদায় করলে আল্লাহ তা সওয়াব হিসাবে গ্রহণ করেন এবং এটি পরকালীন পুরস্কারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে থাকে।
রাসূল (সা.) বলেন:
“যে ব্যক্তি সালাত আদায় করবে, সে পরকালীন পুরস্কার পাবেন।“ (বুখারি)
আল্লাহর রহমত লাভ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আসরের নামাজ আদায় করবে, সে তার ধর্ম রক্ষা করেছে এবং আল্লাহর রহমত লাভ করবে।“ (বুখারি)
জাহান্নাম থেকে মুক্তিা: রাসূল (সা.) বলেন:
“যে ব্যক্তি আসরের নামাজ আদায় করবে, সে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ থাকবে।“ (মুসলিম)
দোয়া কবুল হওয়া: আসরের নামাজের পর বিশেষ সময় থাকে যখন আল্লাহর দোয়া দ্রুত গ্রহণ করেন। আসরের নামাজের পর দোয়া করা খুবই বরকতপূর্ণ, এবং এ সময়ের দোয়া আল্লাহর নিকট বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।
রাসূল (সা.) বলেন:
“আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন আসরের নামাজের পর কিছু সময় দয়ালু এবং রহমতপূর্ণ থাকে, যখন বান্দারা তাঁর কাছে দোয়া করে, তিনি তা গ্রহণ করেন।“
উপসংহার
নিয়মিত আসরের নামাজ আদায় করে একজন মুসলমান আল্লাহর কাছে নিকটবর্তী হয় এবং তার দয়া ও অনুগ্রহ লাভ করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আসরের নামাজ সঠিকভাবে আদায় করার তাওফিক দিন। আমিন।




