নামাজ

এশার নামাজ কয় রাকাত

Share this

এশার নামাজ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের শেষ নামাজ, যা রাতের বেলা আদায় করা হয়। মাগরিব নামাজের সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এশার নামাজের সময় শুরু হয়। এশার নামাজ মোট ১৫ রাকাত আদায় করা হয় তবে কেউ কেউ ১৭ রাকাত এবং ৯ রাকাতও পড়ে থাকেন।—এর মধ্যে রয়েছে চার রাকাত সুন্নতে যায়দা, চার রাকাত ফরজ, দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং সর্বশেষ তিন রাকাত বিতির নামাজ। এশার নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নামাজ হিসেবে বিবেচিত, যার বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে।

Read More:-

এশার নামাজ ১৭ রাকাত ও কি কি: ৪ রাকাত সুন্নতে যায়দা, ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, ২ রাকাত নফল, ৩ রাকাত বিতর এবং ২ রাকাত নফল।

এশার নামাজ ৯ রাকাত কি কি: ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং ৩ রাকাত বিতর নামাজ।

সাধারণভাবে এশার নামাজ ১৫ রাকাত আদায় করা উত্তম হলেও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৭, এবং ৯ রাকাত পড়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এশার নামাজের সময়

এশার নামাজের সময় সাধারণত মাগরিব নামাজ শেষে শুরু হয় এবং ফজরের নামাজ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে। তবে, আদায়ের উত্তম সময় হিসেবে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এশার নামাজ পড়ার সঠিক সময় নিচে আলোচনা করা হলো-

  • শুরু: মাগরিব নামাজ শেষে যেমনই এশার নামাজের সময় প্রবেশ করে।
  • শেষ: ফজরের নামাজের শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত এশার নামাজ পড়া যায়, তবে খুব দেরি না করা উত্তম।

আদায়ের উত্তম সময়: মাগরিব নামাজ শেষে কিছু বিরতি নিয়ে রাতের প্রথম অংশে এশার নামাজ পড়া শ্রেয়। যদি সেই সময়ে নামাজ পড়া না যায়, তবে ফজরের আগ পর্যন্ত আদায় করা যেতে পারে।

বিশেষ পরামর্শ: এশার নামাজ ঘুমানোর আগে আদায় করা উত্তম। যদি ঘুমানোর আগে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে ঘুম থেকে উঠে পড়া উচিত।

এশার নামাজ পড়ার নিয়ম

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে শেষ নামাজ হিসেবে এশার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। এটি সাধারণত রাতের সময় আদায় করা হয়। নীচে এশার নামাজ পড়ার সঠিক নিয়মের বিস্তারিত আলোচনা দেওয়া হলো।

নিয়ত: (এশার নামাজের নিয়ত নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে)

প্রথম রাকাত

তাকবির: নামাজ শুরু করার সময় “আল্লাহু আকবার” বলে হাত উঠিয়ে তাকবির দিন।

সানা: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা…” পড়ুন।

সুরা ফাতিহা: পুরো কুরআনের প্রথম সুরা, ফাতিহা পড়ুন।

আরও একটি সুরা: ফাতিহার পরে আপনার পছন্দ অনুযায়ী অন্য একটি ছোট সুরা পড়তে পারেন।

রুকু: নামাজের রুকুতে নত হয়ে তিনবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম” পড়ুন।

সোজা হয়ে দাঁড়ানো: রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় বলুন:
সামীআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা লাকাল হাম্দ

সেজদা: দুইবার সেজদা করুন—প্রথম সেজদায় “সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা” (কমপক্ষে তিনবার) পড়ুন, তারপর একটু বসে আবার সেজদা করুন।

দ্বিতীয় রাকাত

তাকবির: দ্বিতীয় রাকাত শুরু করার জন্য “আল্লাহু আকবার” বলে তাকবির দিন।

সানা সুরা: প্রথম রাকাতের মতো—সানা পড়ুন, তারপর ফাতিহা ও একটি ছোট সুরা (যদি পড়তে চান) পড়ুন।

রুকু সেজদা: একই নিয়ম অনুযায়ী রুকু ও দুইবার সেজদা করুন।

তাশাহুদ: দ্বিতীয় সেজদা থেকে উঠে বসে বসার অবস্থায় তাশাহুদ (আত্তাহিয়াতু) পড়ুন।

তৃতীয় রাকাত

তাকবির: নতুন রাকাত শুরু করতে “আল্লাহু আকবার” বলুন।

সুরা ফাতিহা: তৃতীয় রাকাতে সাধারণত শুধুমাত্র ফাতিহা পড়া হয়।

রুকু সেজদা: প্রথম দুই রাকাতের মতোই রুকু ও দুইবার সেজদা করুন।

উঠে দাঁড়ানো: রুকু থেকে উঠে পরবর্তী রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান।

চতুর্থ রাকাত

তাকবির ফাতিহা: আবার “আল্লাহু আকবার” দিয়ে রাকাত শুরু করে ফাতিহা পড়ুন।

রুকু সেজদা: একই নিয়মে রুকু ও দুইবার সেজদা করুন।

আত্তাহিয়াতু সালাম: চতুর্থ রাকাতের শেষে বসে তাশাহুদ (আত্তাহিয়াতু), দরুদ শরিফ ও প্রার্থনার কিছু অংশ পড়ুন। শেষে ডান এবং বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ সমাপ্ত করুন।

নিয়মিত এই নিয়ম মেনে নামাজ আদায় করলে ইসলামের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। আল্লাহ আমাদের ইবাদত কবুল করুন।

এশার নামাজের ফজিলত

এশার নামাজের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। এটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শেষ নামাজ, যা সন্ধ্যার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। এই নামাজ পড়ার মাধ্যমে রাতের বাকি সময়ে অতিরিক্ত ইবাদত যেমন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা আত্মার আধ্যাত্মিক উদ্দীপনা বাড়ায় এবং আল্লাহর রহমত ও কৃপা লাভের সম্ভাবনাকে উজ্জীবিত করে।

নামাজ পড়ার উত্তম সময় হচ্ছে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ, যখন মনোযোগ ও ধ্যান সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর প্রতি নিবদ্ধ হয়। এভাবে নামাজ আদায় করলে দিনের কাজের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি কমে যায়, এবং একজন মুসলমানের হৃদয় শান্তিতে মিলিত হয়, যা আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মনিবেদন করার এক সেরা উপায়।

অনেক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা নিয়মিত এশার নামাজ আদায় করেন, তাদের পাপ ক্ষমা হয়ে যায় এবং তারা আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করেন। উপরন্তু, জামাতে এশার নামাজ পড়লে সওয়াব অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়, কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) জামাতে নামাজ আদায় করার বিশেষ সুপারিশ করেছেন। জামাতে পড়া মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভায়বোন্ডের বার্তা বহন করে।

সর্বোপরি, নিয়মিত এশার নামাজ আদায় করলে পাপ মাফ, রহমত লাভ ও জীবনে ধার্মিক উন্নতি নিশ্চিত হয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইবাদতে, ধিকরে ও দোয়ায় সাফল্য প্রদান করুন। আমীন।

এশার নামাজ ঘুমের আগে আদায় করা উত্তম। যদি কেউ ঘুমাতে যাওয়ার আগে এশার নামাজ আদায় করতে না পারে, তাহলে ঘুম থেকে উঠে হলেও তা আদায় করা উচিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *